পৃথিবীর ইতিহাসে তৈরি করা সবথেকে শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী পারমাণবিক অস্ত্র হলো 'জার বোম্বা' (Tsar Bomba)। ১৯৬১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন এটি পরীক্ষা করেছিল, যার শক্তি ছিল হিরোশিমায় ব্যবহৃত বোমার চেয়ে প্রায় ৩৩৩ গুণ বেশি। এই ভিডিওতে এই বোমার ভয়াবহতা এবং ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
মূল আকর্ষণসমূহ:
১. অকল্পনীয় ধ্বংসক্ষমতা: জার বোম্বা ছিল ৫০ মেগাটন ক্ষমতার একটি হাইড্রোজেন বোমা। এটি মানুষের তৈরি ইতিহাসের সবথেকে বড় একক বিস্ফোরণ হিসেবে পরিচিত।
২. বিশাল আকৃতি ও বহন: এই বোমাটি ওজন ছিল প্রায় ২৭ টন এবং দৈর্ঘ্য ৮ মিটার। এটি এতটাই বড় ছিল যে সোভিয়েত ইউনিয়নের টিইউ-৯৫ বিমানটিকে বিশেষভাবে পরিবর্তন করে এটি বহন করতে হয়েছিল। এমনকি বিমান থেকে ফেলার সময় গতি কমানোর জন্য ৮০০ কেজির বিশাল প্যারাশুট ব্যবহার করা হয়েছিল।
৩. ভয়াবহ বিস্ফোরণ: পরীক্ষার সময় বিস্ফোরণের ফলে তৈরি মাশরুম ক্লাউডটি প্রায় ৬৭ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে গিয়েছিল। এর শকওয়েভ বা কম্পন পুরো পৃথিবীকে তিনবার প্রদক্ষিণ করেছিল এবং ১০০০ কিলোমিটার দূর থেকেও এর আলোর ঝলকানি দেখা গিয়েছিল।
৪. কেন আর বানানো হয়নি: এটি মূলত তৈরি করা হয়েছিল আমেরিকার ওপর মনস্তাত্ত্বিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য। কিন্তু এটি বাস্তবে যুদ্ধের জন্য উপযোগী ছিল না। কারণ এটি বহন করার মতো কোনো মিসাইল তখন ছিল না এবং বিশাল আকৃতির কারণে এটি পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
৫. মানবিক ও রাজনৈতিক প্রভাব: এই বোমার ভয়াবহতা দেখে এর প্রধান বিজ্ঞানী আন্দ্রে শাখারফ পরবর্তীতে পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী হয়ে ওঠেন এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। এই পরীক্ষার ফলেই পরবর্তীতে বায়ুমণ্ডল ও পানির নিচে পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ করার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
৬ বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে এই বোমার কোনো সক্রিয় সংস্করণ নেই। এর খালি খোলস বা কেসিং রাশিয়ার সারফ এবং মস্কোর জাদুঘরে প্রদর্শনী হিসেবে রাখা হয়েছে।
0 Comments